*অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণে গিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ*
বারুইপুর | জাহাঙ্গীর বাদশা:
বারুইপুরের চাঞ্চল্যকর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় বড় মোড়। অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয় প্রভাস মণ্ডল। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাত, প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারুইপুর থানার মামলা নম্বর ১৩৫০/২৬-এর তদন্তকারী আধিকারিক (আইও) এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুর থানার অন্তর্গত সূর্যপুর এলাকায় ঘটনাস্থলে যায়। মামলার তদন্তের স্বার্থে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ (Crime Reconstruction) করে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখাই ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক আগে আচমকাই এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় প্রভাস মণ্ডল। এরপর পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। সেই গুলিতে গুরুতর জখম হয় অভিযুক্ত।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাস মণ্ডলকে দ্রুত উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এনকাউন্টারের ঘটনারও নিয়ম মেনে তদন্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য, রাজনৈতিক তরজা এবং জনরোষ তৈরি হয়েছে। সেই বহুল আলোচিত মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এই মৃত্যু তদন্তের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করল।

0 মন্তব্যসমূহ