Header Ads Widget

ERTERTERT

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, তমলুকে মনসা পুজোর অনুষ্ঠানে উত্তেজনা*


 জাহাঙ্গীর বাদশা।।তমলুক

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার দক্ষিণ উসুৎপুর এলাকায় মনসা পুজো উপলক্ষে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিককে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী এক নৃত্যদলের দুই মহিলা শিল্পী শ্লীলতাহানি, মারধর ও জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনায় দুই মহিলা শিল্পী এবং তাঁদের দলের এক পুরুষ সদস্য আহত হন। তাঁদের তমলুকের তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে তমলুক থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ উসুৎপুর এলাকার একটি স্থানীয় ক্লাবের উদ্যোগে মনসা পুজো উপলক্ষে একটি নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে নন্দকুমার থানা এলাকার একটি নৃত্যদল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে। অভিযোগ, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত পারিশ্রমিক চাইতে গেলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকার করে। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে বচসা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়।

নৃত্যদলের অভিযোগ, ক্লাবের কয়েকজন সদস্য তাঁদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। দুই মহিলা শিল্পীর জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় দলের এক পুরুষ সদস্যও আক্রান্ত হন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অন্যদিকে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন মহিলা শিল্পী অশালীন পোশাক পরে নাচ পরিবেশন করছিলেন এবং মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে স্থানীয় কয়েকজন মহিলা আপত্তি জানান। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। ক্লাবের দাবি, শ্লীলতাহানি বা পরিকল্পিত মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

শুক্রবার নৃত্যদলের পক্ষ থেকে তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ নৃত্যদলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার সত্যতা পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ