বালি খাদান, ছাই খাদান ও ফেরিঘাটে সরেজমিনে পরিদর্শনে জেলাসভাধিপতি; অবৈধ কারবারের অভিযোগে কড়া বার্তা
জাহাঙ্গীর বাদশা।। তমলুক।। পূর্ব মেদিনীপুর।।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বালি খাদান, ফেরিঘাট এবং কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অ্যাশ পন্ড (ছাই খাদান) ঘিরে ওঠা একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি তমলুকের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বালি খাদানকে কেন্দ্র করে টাকা নেওয়ার পরেও বালি সরবরাহ না করার অভিযোগ সামনে আসে। এরপর থেকেই জেলার বিভিন্ন বালি খাদানের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জেলা পরিষদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই বৈধ অনুমতি থাকলেও নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বালি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এর পিছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় বলেও প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে।
সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানান, জেলার সমস্ত বালি খাদান সংক্রান্ত নথি তলব করা হয়েছে। স্থানীয় ডিএলঅ্যান্ডএলআরও, বিএলঅ্যান্ডএলআরও এবং পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই বিভিন্ন বালি খাদান, ছাই খাদান ও ফেরিঘাট পরিদর্শন করবেন। সরকারি সম্পদের অপব্যবহার বা নিয়ম ভঙ্গের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, তমলুকের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বালি খাদানের এক পার্টনার শেখ মতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক নির্মাণ সংস্থার কর্ণধার নাসির মল্লিক। তাঁর দাবি, প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরও প্রায় এক বছর ধরে বালি দিয়ে জমি ভরাট করা হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার ওঝার অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ডাম্পারভর্তি অতিরিক্ত বালি বৈধ কাগজপত্র বা বিল ছাড়াই পাচার করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তমলুকের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বালি খাদানের লিজগ্রহীতা RS সংস্থার মালিক শেখ সইদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনেই বৈধভাবে বালি উত্তোলন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কাজে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা বেআইনি কার্যকলাপ নেই। তিনি বলেন, "প্রয়োজনে সরকারি আধিকারিকরা তদন্ত করে দেখুন। আর নাসির মল্লিকের কাছ থেকে শেখ মতি টাকা নিয়ে বালি দেননি—এই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি নাসিরবাবু ও মতির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।"
এখন জেলা পরিষদের উদ্যোগে সরেজমিনে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে জেলার বিভিন্ন মহলের।

0 মন্তব্যসমূহ