জাহাঙ্গীর বাদশা | পাঁশকুড়া | পূর্ব মেদিনীপুর
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার পাঁশকুড়া ব্লকের প্রতাপপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর বেহাল দশা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা,পড়ুয়া এবং অভিভাবকেরা। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে বালি, সিমেন্ট ও পাথরের চাঙড় খসে পড়ছে। অভিযোগ, অন্তত ছয়টি শ্রেণিকক্ষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন সেই শ্রেণিকক্ষেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার পড়ুয়া।
ক্লাস চলাকালীন হঠাৎই একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে পাথরের একটি চাঙড় খসে পড়ে এক ছাত্রের গায়ে লাগে। সৌভাগ্যবশত বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিদ্যালয়ে। এরপর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সকলেই।
বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, প্রতিদিনই ছাদ থেকে বালি ও সিমেন্ট ঝরে পড়ে। ফলে ক্লাস করার সময় সবসময় ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও জানান, এই অবস্থায় পাঠদান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত বিদ্যালয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুমার ঘনা জানান, বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে। দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল ভবন সংস্কারের জন্য জেলা শাসক (ডিএম) সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “এখন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমরা আশাবাদী, নতুন সরকার বিদ্যালয়ের সমস্যার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে। কারণ বর্তমানে যেভাবে শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে বালি, সিমেন্ট ও পাথরের অংশ খসে পড়ছে, তাতে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”
এদিকে এই ঘটনার পর বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের একাংশও অবিলম্বে বিদ্যালয়ের সংস্কার এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

0 মন্তব্যসমূহ