জাহাঙ্গীর বাদশা।। পূর্ব মেদিনীপুর।।
বর্ষা ও সম্ভাব্য জলোচ্ছাসের আগে দিঘা মোহনা এবং শংকরপুর উপকূলের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রবিবার সকালে পরিদর্শনে যান পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েতের প্রধান, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনকালে তিনি দিঘা মোহনায় পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ার সমস্যা এবং শংকরপুর উপকূলের একাধিক স্থানে নদী ও সমুদ্রভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা, মৎস্যজীবী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও শোনেন।
জানা গিয়েছে, দিঘা মোহনায় দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় মাছ বোঝাই একাধিক ট্রলার চড়ায় ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ফলে অনেক ট্রলার বাধ্য হয়ে মাছ ধরার কাজ ও নোঙরের জন্য ওড়িশা কিংবা পেটুয়া এলাকার দিকে চলে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে, শংকরপুর উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্রভাঙন ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার সময় প্রবল বৃষ্টি এবং সম্ভাব্য জলোচ্ছাসের ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উপকূল সংলগ্ন বসতি, রাস্তা এবং মৎস্য অবকাঠামো।
পরিদর্শনের শেষে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সেচ, মৎস্য, সেচ ও জলপথ, জেলা প্রশাসন-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করা হবে। সেখানে উপকূল রক্ষা, ভাঙন প্রতিরোধ, দিঘা মোহনায় নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং মৎস্যজীবীদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে উপকূলীয় ভাঙন রোধ, দিঘা মোহনায় নাব্যতা বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে।

0 মন্তব্যসমূহ