Header Ads Widget

ERTERTERT

কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক TET-এর বিরোধিতায় তমলুকে ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ মিছিল


তমলুক, ২৫ জুন: কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (TET) পাশের নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার তমলুকে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করলেন শিক্ষকরা। "TET Affected Teachers"-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশগ্রহণ করেন।



সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশে কর্মরত শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে TET পাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে TET উত্তীর্ণ হতে না পারলে চাকরি ও পেনশন সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।


শিক্ষকদের দাবি, ২০১১ সালে TET চালু হওয়ার আগে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর করা উচিত নয়। কারণ, শিক্ষার অধিকার আইনের ১২(এ) ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের উপর এর কোনও বিরূপ প্রভাব পড়বে না।


বৃহস্পতিবার তমলুকের মানিকতলা মোড় থেকে হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হয়। পরে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক, প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে রাজ্যপালের উদ্দেশে স্মারকলিপি জমা দেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।


আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষক এই রায়ের ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর শিক্ষকতা করার পর পুনরায় TET পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করা হলে বহু শিক্ষক সমস্যায় পড়বেন এবং এর প্রভাব সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপরও পড়তে পারে।


শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, এই রায়ের ফলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের রায়ে পাঁচ বছরের বেশি চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের TET পাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। পরে এই নির্দেশ সংশোধনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৬৯টি রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি প্রক্রিয়ার পর গত ২৯ মে প্রকাশিত রায়ে ৩১ আগস্ট ২০২৮ সালের মধ্যে TET পাশ বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়।


এদিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা সতীশ সাউ, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির প্রতিনিধি গৌরচন্দ্র প্রতি, প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক গৌরহরি মান্না সহ অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন এসটিইএ-র সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব দাস, জেলা সম্পাদক শম্ভু মান্না, বিপিটিএ-র সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা, জেলা সম্পাদক সৌমিত্র পট্টনায়েক প্রমুখ।


সভা থেকে শিক্ষক নেতারা দলমত নির্বিশেষে সমস্ত কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি সুরক্ষার দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।


রিপোর্ট: জাহাঙ্গীর বাদশা

"বাধ্যতামূলক TET-এর বিরোধিতায় তমলুকে শিক্ষকদের বিক্ষোভ, জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ