Header Ads Widget

ERTERTERT

হলদিয়া পেট্রোকেমের পাইপলাইনে ন্যাপথা লিক, ১০ ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে নয় আগুন — পুড়ে ছাই একাধিক বাড়ি, আহত ২২



জাহাঙ্গীর বাদশা | হলদিয়া | পূর্ব মেদিনীপুর

পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৪টা নাগাদ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। অভিযোগ, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস (HPL)-এর পাইপলাইন থেকে ন্যাপথা লিক হওয়ার পরই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হলদিয়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জীবপুর এলাকার একাধিক বাড়িতে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বহু বসতবাড়ি ও গৃহস্থালির সামগ্রী।

ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা কেটে গেলেও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ ফোম টেন্ডার। দমকল কর্মীরা আগুনের বিস্তার রুখতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট ২২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বস্তিবাসী এবং ৩ জন হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের শ্রমিক। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ১০ জনকে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকি ১২ জনের চিকিৎসা চলছে তমলুকের তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে।

অগ্নিকাণ্ডের জেরে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিজেপির উদ্যোগে একটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত, হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলী, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। তাঁরা ঘটনাস্থলের পাশাপাশি হাসপাতালেও গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানান, রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ও আহতদের পাশে রয়েছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর মুখ্যমন্ত্রী নিজেও নজর রাখছেন বলে তিনি জানান।

ঘটনার জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে হলদিয়া-হাওড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে হলদিয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

কীভাবে পাইপলাইন থেকে ন্যাপথা লিক হল এবং তার জেরেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ