জাহাঙ্গীর বাদশা | তমলুক | পূর্ব মেদিনীপুর
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার অন্তর্গত কুরপাই এলাকার একটি স্কুলের হোস্টেল থেকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার স্কুল চলাকালীন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম সুখেন্দু দাস। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ব্লকের নৌইছনপুর এলাকায়। তিনি কুরপাই স্কুলের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতেন।
জানা যায়, এদিন সকালে স্কুলের মর্নিং সেশনের ক্লাস যথারীতি শুরু হয়। সুখেন্দুও হোস্টেল থেকে বেরিয়ে ক্লাসে যোগ দেয়। তবে পরপর দু'টি ক্লাস করার পর সে আবার হোস্টেলে ফিরে যায়। এরপর স্কুল ছুটি হলে অন্যান্য আবাসিক ছাত্ররা হোস্টেলে ফিরে এসে দেখতে পায়, একটি ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে সুখেন্দু। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তমলুক থানায় খবর দেন । পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নোটের ভিত্তিতে এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত বা প্রেমঘটিত কারণে ওই ছাত্র এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্কুলজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তমলুক থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।

0 মন্তব্যসমূহ